আমার সাতে-পাঁচে কেউ নেই
এই বাক্যটি শুধু কথার কথা নয়—এটি এক ধরনের মানসিক অবস্থার প্রতিচ্ছবি, যেখানে মানুষ নিজেকে একা, নির্ভরযোগ্য কাউকে ছাড়াই বাঁচতে শিখে ফেলে। জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও ঠকে যাওয়ার পরে একজন মানুষ যখন আর কারও ওপর ভরসা রাখতে পারে না, তখন সে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে—"আমার সাতে-পাঁচে কেউ নেই।"
এই একাকীত্ব শুধু শারীরিক নয়, বরং মানসিকভাবে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখার ইচ্ছাই এখানে প্রাধান্য পায়। মানুষ তখন নিজের জগতে থাকতে চায়, কোনো হিসাব-নিকাশে যেতে চায় না। না কারও উপকারে যেতে চায়, না অপকারে—সে শুধু চায় নিজের মতো করে চলতে। কারণ সে জানে, দুনিয়ার অধিকাংশ সম্পর্কই শর্তসাপেক্ষ এবং প্রয়োজনে গড়ে ওঠে, আবার প্রয়োজন ফুরালে ভেঙেও যায়।
তবে এমন মনোভাব শক্তি এবং দুর্বলতা—দুয়েরই পরিচয়। একদিকে এটি আত্মনির্ভরতার চূড়ান্ত রূপ, অন্যদিকে এটি সমাজ থেকে বিচ্ছিন্নতার ইঙ্গিতও হতে পারে। তাই, “আমার সাতে-পাঁচে কেউ নেই” বললেও, মানুষের উচিত সব সম্পর্ককে এক কোটিতে না ফেলে, ভালো-মন্দ যাচাই করে চলা।


No comments